অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৩২ বার পঠিত
ব্যবসা শুরু করতে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে দৌড়াতে হবে না—এমন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ভবন, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশসংক্রান্ত পরিদর্শন এক দিনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য, ব্যবসার খরচ কমানো, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করা।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার জন্য একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ চলছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন আলাদা ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে থাকে।
নতুন পোর্টাল চালু হলে উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই লগইন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে এবং ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে ব্যবসা সহজীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক জটিলতা দূর করতে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠকে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
সরকার ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে। পাশাপাশি লাইসেন্সটির নাম পরিবর্তন করে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা ব্যবসা নিবন্ধন সনদ রাখার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, লাইসেন্স নবায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সময় কমানো এবং ব্যবসায়ীদের নিয়মিত দাপ্তরিক ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়া।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে বিভিন্ন সংস্থার বারবার যাওয়ার কারণে যে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়, তা কমাতেও উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একই দিনে ভবনের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান যাচাই করবে। এতে আলাদা আলাদা সময়ে পরিদর্শনের প্রয়োজন কমবে।
এই যৌথ পরিদর্শন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশের।
বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের জটিলতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি এ প্রক্রিয়াকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে বলেছেন, বিদেশি কর্মীরা বৈধ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত করও পরিশোধ করে।
এ কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন সহজ করা, একই ধরনের অনুমোদনের পুনরাবৃত্তি কমানো এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে গত আগস্টে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার।
২১ সদস্যের এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে বিভিন্ন শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন এবং বিদেশি কর্মীদের অনুমোদন নবায়নে সময় ও ব্যয় কমতে পারে। তবে ব্যবসায়ীদের জন্য প্রকৃত সুবিধা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতটা বাস্তবে নিশ্চিত করা যায়, সেটিই হবে মূল বিষয়।
Posted ০২:৪৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন